সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | রবিবার, ০৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 90 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের অন্তত ৩ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার মেদির হাওর এলাকায় দেখা গেছে, আগাম বানের পানিতে আধাপাকা সোনালি ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকরা চড়া মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে পানির নিচে ডুবে থাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। প্রতি শ্রমিককে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে থাকা ধানে পচন ধরতে শুরু করেছে।
মহাকালপাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০ কানি জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ কানি জমির ধান কাটতে পেরেছেন, বাকি ১৫ কানি জমির ধান এখনও পানির নিচে। তিনি বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা এনে চাষাবাদ করেছিলাম। আশা ছিল ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। এখন সব আশা শেষ হয়ে গেছে।
শ্রীপুর গ্রামের কৃষক নারায়ণ দাস বলেন, তার ৪ কানি জমির বিআর-২৯ জাতের ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। আর দুই সপ্তাহ সময় পেলেই ধান ঘরে তুলতে পারতেন। তিনি বলেন, পানির নিচ থেকে কেটে আনা এক মণ ধানের দাম মাত্র ৬০০ টাকা, অথচ একজন শ্রমিককে দিতে হয় ১ হাজার ৪০০ টাকা। এ অবস্থায় ধান কেটে লাভ নেই।
নাসিরনগর পশ্চিমপাড়ার কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, তার ২০ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে হাওরের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নতুন জাতের ধান আবাদ হওয়ায় জেলার সামগ্রিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নূর আলী বলেন, এ বছর সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন ধান কিনবে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।
Posted ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah